মার্কিন শুল্ক ভারতের উপর: নতুন বাণিজ্য সংকটের আশঙ্কা

ভারতের উপর ১২.৫% অতিরিক্ত মার্কিন শুল্কের প্রস্তাব। ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপে কী প্রভাব পড়তে পারে ভারতীয় বাণিজ্যে? জানুন কেন্দ্রের প্রতিক্রিয়া।ভারতের উপর ফের অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। প্রস্তাব অনুযায়ী, ভারত-সহ প্রায় ৬০টি দেশের পণ্যের উপর ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও ভারত সরকার জানিয়েছে, বিষয়টি এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত আছে।

কেন এই শুল্ক আরোপের প্রস্তাব?

মার্কিন বাণিজ্য দপ্তর (USTR) তাদের আইনের Section 301-এর আওতায় এই প্রস্তাব দিয়েছে।হোয়াইট হাউসের দাবি অনুযায়ী, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রম (Forced Labor) দিয়ে তৈরি পণ্যের আমদানি রোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়নি, তাদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

প্রস্তাবিত শুল্ক কাঠামো
1. জোরপূর্বক শ্রম-ভিত্তিক আমদানির বিরুদ্ধে আংশিক ব্যবস্থা নেওয়া দেশগুলির জন্য: ১০% শুল্ক
2. যথেষ্ট ব্যবস্থা না নেওয়া দেশগুলির জন্য: ১২.৫% শুল্ক
3.ভারত, চিন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রিটেন-সহ ৬০টি দেশ এই তালিকায় রয়েছে

ভারতের অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ১২.৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হয়, তাহলে ভারতের কয়েকটি রপ্তানি খাত চাপে পড়তে পারে।
সম্ভাব্য প্রভাবিত খাত
১. ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য
ভারতের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানি ক্ষেত্র। অতিরিক্ত শুল্কের ফলে মার্কিন বাজারে প্রতিযোগিতা কঠিন হতে পারে।
২. টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস
ভারতীয় পোশাক শিল্পের একটি বড় বাজার আমেরিকা। শুল্ক বৃদ্ধি হলে রপ্তানি ব্যয় বাড়তে পারে।
৩. রাসায়নিক ও ফার্মাসিউটিক্যাল
কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে মূল্য প্রতিযোগিতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যের বর্তমান চিত্র

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

তথ্যসূত্র: ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রক ও USTR-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ১৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি ছিল।

এ কারণে সম্ভাব্য শুল্ক বৃদ্ধি শুধু ভারতের নয়, আমেরিকার ব্যবসায়ীদের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment